https://asia24.tv


লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা। ছবি: -সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননের আবাসিক এলাকায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) ভোরের দিকে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। গত জুন মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এটিই লেবাননের ভূখণ্ডে চালানো সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলা।
লেবাননের নাবাতিয়াহ জেলার আনসার ও দেইর এজ-জাহরানি এলাকায় হামলাগুলো চালানো হয়। এর মধ্যে আনসার এলাকায় একটি বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশুসহ একই পরিবারের ৭ জন প্রাণ হারান এবং ২ জন আহত হন। অন্যদিকে দেইর এজ-জাহরানি এলাকায় হামলায় ৪ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের কাছে নিরাপদ হিসেবে পরিচিত আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানোয় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
এই হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার ‘অপমানজনক’ সরাসরি আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। হিজবুল্লাহর মতে, ওয়াশিংটন লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে ইসরায়েলের সামরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। একই সঙ্গে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত ও কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে ইসরায়েলের সামরিক দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে কোনো সামরিক স্থাপনা তদারকির একক দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর; কোনো অজুহাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা যাবে না। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী আইনের এই স্পষ্ট লঙ্ঘনের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের বাহিনীর ওপর হামলার জবাবেই তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা প্রহার করেছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (এনএনএ) তথ্যমতে, জুনের চুক্তির পর এবারই প্রথম দক্ষিণ লেবাননের এত গভীরে ঢুকে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল ইসরায়েল। সীমান্ত সংলগ্ন বিনতে জবেইলে বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস করার পাশাপাশি কবরস্থান ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোতেও হামলা চালিয়েছে তারা।
গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ, ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহার এবং লেবানিজ সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা ছিল। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পিছু হটবেন না। বর্তমানে লেবাননের প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা (পুরো দেশের ৭ শতাংশ) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলেই রয়েছে। একের পর এক বিমান হামলায় সীমান্তজুড়ে এখন চরম যুদ্ধাতঙ্ক বিরাজ করছে।
সূত্র: আল জাজিরা।


