ঢাকা
০৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
Advertise with us

বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬   ১ বার পঠিত
বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মহেশখালীতে প্রধানমন্ত্রী।  ছবি: -সংগৃহীত

দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে জনগণকে কড়া সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত কিছুদিনের অশুভ তৎপরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অর্ধশতাব্দী পার হয়েছে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো দেশ গড়া এবং জনগণের জীবনমানের টেকসই পরিবর্তন আনা।

রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যাপীড়িত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষে বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাত পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, আগামী এক দশকের চাহিদা মেটাতে একটি যুগোপযোগী ও সুদূরপ্রসারী ১০ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকল্পনা অচিরেই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশের স্পর্শকাতর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে গুটিকয়েক সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সেই অপরিকল্পিত ব্যবস্থা ভেঙে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরিতে কিছু সময় প্রয়োজন। নতুন এ মহাপরিকল্পনা কার্যকর হলে বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হবে এবং যানবাহন চলাচলে গ্যাসের সহজলভ্যতা তৈরি হবে। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে, তবে তা যেন তারা জনগণের সামনে পেশ করেন।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পর চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে দেশজুড়ে ফ্যামিলি কার্ডের মূল কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে যাবে, যার মাধ্যমে কেবল বাঁশখালী উপজেলারই ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ চালু হচ্ছে, যা সাধারণ চাষিদের পাশাপাশি উপকূলীয় লবণ চাষিরাও পাবেন। প্রান্তিক লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শিগগিরই লবণের নতুন যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ার মাস্টারপ্ল্যান বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী, মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান মন্ত্রিসভায় অর্থ ও স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রামের দুজন সুযোগ্য সন্তান প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাই চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্বিক অগ্রগতি এখন অর্জনের পথেই রয়েছে। তিনি দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শক্তিশালী কর্মশক্তিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জনসভায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বক্তব্য রাখেন। এর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামে বন্যাকবলিত একটি পরিবারের হাতে নতুন নির্মিত বাড়ির চাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও হাঁস-মুরগি হস্তান্তর করেন এবং নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa