https://asia24.tv


ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: -ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বিজয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কৌশল আঁটছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রথম সারির একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আভাস দিয়েছেন যে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা নিশ্চিত করা গেলে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সাময়িক বিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।
মার্কিন নীতি নির্ধারকদের ধারণা, গত বছরের জুনে চালানো সামরিক অভিযান ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এ ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা তেহরানের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে বেশ কঠিন হবে। ট্রাম্পের বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি এবং পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মনস্তাত্ত্বিক ভয় তেহরানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা সমুদ্রপথ পুরোপুরি খুলে দিলে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার চিন্তা করতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই প্রত্যাশার বিপরীতে কড়া অবস্থান নিয়েছে তেহরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন নিজেদের আগ্রাসী আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ছয়টি শর্তের মধ্যে রয়েছে— মধ্যপ্রাচ্যে সমস্ত মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ, অবৈধ নৌ-অবরোধ ও অর্থ-বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং পূর্ববর্তী যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে তেহরানের এমন কঠোর শর্তাবলি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বের হয়ে আসার পথ সংকুচিত করে দিয়েছে। কারণ, ট্রাম্প যে যেকোনো মূল্যে সংঘাত এড়াতে চান— তা অনুধাবন করেই ইরানি কূটনীতিবিদরা দরকষাকষিতে আপসহীন ভূমিকা নিচ্ছেন।
যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের এ মতামতকে বড় করে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি অতি দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে বলে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন এবং দাবি করেছেন, তেহরানের আর দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক বা কৌশলগত সামর্থ্য অবশিষ্ট নেই।


