ঢাকা
০৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
Advertise with us

প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট
রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬   ০ বার পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা দাবি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর।  ছবি: -সংগৃহীত

পবিত্র কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস না করা, মহান আল্লাহ ও মহানবী (সা.)-এর অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির আইনি বিধান রাখা এবং ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আলেমদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে করা সমস্ত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারসহ কওমি সনদের যথাযথ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া এক সংবর্ধনা ও অভিনন্দনপত্রে এই ৯টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে দেওয়া সেই স্মারকে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, ২০২১ সালের মোদীবিরোধী গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলজুড়ে দেশের আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলাগুলো দ্রুত নিঃশর্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। নতুন বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশের ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের সরাসরি অংশীদার করার ওপর জোর দেয় সংগঠনটি।

শিক্ষাব্যবস্থা ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সংগঠনটি দাবি করে, দাওরায়ে হাদীসের দেওয়া মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষার সাধারণ ডিগ্রির পাশাপাশি দাওরায়ে হাদীসকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তাঁরা। এছাড়া প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিয়াত ও ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে হেফাজতের দাবিতে উল্লেখ করা হয়— পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেশি-বিদেশি মিশনারি সংস্থাগুলোর অপতৎপরতা বন্ধ করা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা। অন্যদিকে, তাবলিগ জামাত ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা প্রথাগত মূলধারার উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানিয়ে ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের কোনো প্রকার সমাবেশ বা ইজতেমা করার অনুমতি না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

অভিনন্দনপত্রে হেফাজত তাদের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী, সাবেক আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং বিগত দিনের আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা যুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত এবং তাঁর মাতা বেগম খালেদা জিয়ার আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অবস্থানের কথা স্মরণ করা হয়।

উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa