https://asia24.tv


আদিবাসী দিবসে আদিবাসীদের অনুষ্ঠান। ছবি: -সংগৃহীত
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পরও দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার ও আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আদিবাসী নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে রবিবার (৯ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য গণসমাবেশ ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিপুলসংখ্যক আদিবাসী নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী সাজপোশাকে এতে অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, “দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। উন্নয়নের অজুহাতে ভূমি দখল ও উচ্ছেদ বন্ধ করে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সহ-সভাপতি উষাতন তালুকদার পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১৬৯ নম্বর কনভেনশন অনুসমর্থনের দাবি জানান। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছরেও পার্বত্য চুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে সব পক্ষকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির, সিপিরি সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, লেখক সোহরাব হাসান ও ব্যারিস্টার সারা হোসেনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে আদিবাসীদের প্রতি সংহতি জানান।
সমাবেশ থেকে আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষায় তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ৮ দফা মূল দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন এবং আদিবাসীদের ওপর সব ধরনের নিপীড়ন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।


