ঢাকা
১৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
ভারতসহ সব দেশ সফরের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফ্রান্সকে মানবাধিকার নিয়ে ‘জ্ঞান দেওয়া’ বন্ধ করতে বলল ইরান ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও পুনর্গঠনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে এডিবি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩ মনোনয়নপত্র জমা, প্রার্থী মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ শাহবাগে চালু হলো আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরিতে লাগবে অনুমতি, নির্ধারিত হবে কারখানা পুঁজিবাজার থেকে ১৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে সিটি গ্রুপ জ্বালানি সংকট নিরসনে ২০২৯ সালের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ৩টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল, মহাসচিব পদে ইস্তফা জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট
Advertise with us

১৫ লাখ টাকার মাদক ভাগাভাগি নিয়ে গুলি, ল্যাংড়া রুবেলসহ গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬   ৮ বার পঠিত
১৫ লাখ টাকার মাদক ভাগাভাগি নিয়ে গুলি, ল্যাংড়া রুবেলসহ গ্রেফতার ৫

ছবি: -প্রতিনিধি

রাজধানীর পল্লবীতে মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ‘ল্যাংড়া রুবেল’সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন- হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী। তাদের কাছ থেকে গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় জোসনা নামে এক পথচারী নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

এ ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা করা হয়। ঘটনার পর ডিবি মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করে পুলিশ। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ খান ওরফে মাখন জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক মাদক কারবারি ল্যাংড়া রুবেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে কালশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ল্যাংড়া রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেফতার করে ডিবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের জেরে ওই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

ডিবি প্রধান জানান, আলমগীর নিজেও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এ মামলায় তিনি ভুক্তভোগী।

 

এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার অন্যকোনো পরিচয় আমলে নেওয়া হবে না। তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, ল্যাংড়া রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তথ্য পাঠানো হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, রুবেলের নামে গাড়ি নিবন্ধিত না থাকলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন গাড়িগুলো রুবেলই কিনে দিয়েছেন। হেমায়েতপুরে রুবেলের বসবাসের বাড়ি নিয়েও তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, রুবেলের দৃশ্যমান অন্য কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মাদক কারবারের তার আয়ের প্রধান উৎস বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান জানান, গোলাগুলির সময় গাড়িতে বাপ্পাসহ আরও কয়েকজন ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত বলেও জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa