https://asia24.tv


ফাইনাল শেষে মাঠে মন খারাপ করে বসে পড়া মেসি। ছবি: -সংগৃহীত
সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপের ঝলমলে উৎসব ও গ্যালারির উন্মাদনার নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল চরম আতঙ্ক আর প্রাণনাশের ভীতিকর সব ছায়া। আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরটি শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের (আইপিসিসি) অত্যন্ত গোপনীয় এক নথি ফাঁস হয়ে পড়ার পর এ চাঞ্চল্যকর সত্য সামনে এসেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘প্রেনসা ইবেরিকা’র প্রকাশিত ওই নথিতে দেখা গেছে, টুর্নামেন্টজুড়ে কীভাবে প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি, বোমাতঙ্ক এবং লাগাতার হয়রানির খড়্গ ঝুলছিল লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো শীর্ষ তারকাদের মাথার ওপর।
তদন্ত নথির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভয়াবহ ও জীবননাশী হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচের দিন টেক্সাসের ডালস বিমানবন্দরে ফোন করে এক আততায়ী দাবি করে, সে ও তার সঙ্গীরা স্বহস্তে বানানো বোমা এবং এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের প্রধান নিশানা ছিলেন মেসি নিজেই। এছাড়া মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের পূর্বেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দিয়ে মেসিকে হত্যার প্রকাশ্য হুংকার দেয়। এমনকি ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে বোমা থাকার গুজবে বিশেষ প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পুরো মাঠে তল্লাশি চালাতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
অন্যদিকে পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও টুর্নামেন্টজুড়ে ছিলেন টানা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। হিউস্টনে পর্তুগাল দল অবস্থানকালে রোনালদোর ব্যক্তিগত থাকার জায়গা সম্পর্কিত গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া কানাডার টরন্টো এবং মায়ামিতে একাধিক অনুরাগী ও দর্শক জোরপূর্বক রোনালদোর কর্ডন ভেঙে তাঁর একদম কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা চালান।
শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, বরং মাঠের ভুল কিংবা আচরণের জেরেও তারকা ফুটবলার ও রেফারীদের চরম খেসারত দিতে হয়েছে। মাঠে বিরোধে জড়িয়ে প্যারাগুয়েতে প্রতিকৃতি পোড়ানোর মুখোমুখি হন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। সহজ সুযোগ বা পেনাল্টি নষ্ট করার অপরাধে নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও কলম্বিয়ার জামিনটন ক্যাম্পাজকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আবার প্রথম রাউন্ডে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার পুরো দল ও কোচ হং মাইওং-বোকে কড়া পুলিশ পাহাড়ায় বিমানবন্দর পার করাতে হয়েছিল।
তবে হুমকির প্রাবল্যের দিক থেকে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ৬ হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়, যার সিংহভাগই ছিল ক্ষুব্ধ মিসরীয় সমর্থকদের। পরিস্থিতি এমন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ফ্রান্সে রেফারি লেতেক্সিয়ার এবং ভিএআর দায়িত্বে থাকা অন্য ফরাসি রেফারির বাসভবনে আলাদা পুলিশি প্রহরা বসাতে বাধ্য হয় প্রশাসন।


