https://asia24.tv


ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগুন নেভাচ্ছে একজন দমকলকর্মী। ছবি: -সংগৃহীত
ইউক্রেনজুড়ে রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এ হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মস্কো বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অত্যাধুনিক ‘জিরকন’ ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্দেশিত বোমা ব্যবহার করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া তার মিত্র উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে নতুন করে বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাচ্ছে বলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সতর্ক বার্তা দেওয়ার ঠিক একদিন পরই এ ধ্বংসাত্মক হামলা চালাল মস্কো। ইউক্রেনের ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া তাদের হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উত্তর কোরিয়ার সহায়তায় সেনা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে—মস্কো শান্তির পথ পরিহার করে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার পথ বেছে নিয়েছে।
রাতের হামলায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে জাপোরিঝঝিয়া শহর। সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় ‘জাপোরিঝস্তাল’ ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, বিমান হামলার সাইরেন বাজার পর কর্মীরা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথেই একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে তাদের ছয়জন কর্মী নিহত এবং আরও ২১ জন গুরুতর আহত হন।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী কিয়েভের একটি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে খেরসন ও খারকিভ অঞ্চলে ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিকোলাইভ শহরে একটি ইরানি নকশার রুশ ড্রোন আঘাত হানলে ৭৫ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হন।
তবে এই ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের মতে, কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়া শহরের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পসংক্রান্ত স্থাপনা এবং কৌশলগত পরিবহন নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করেই কেবল এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্দর গুসেভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু বাণিজ্যিক গুদামে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। অঞ্চলটির পাঁচটি জেলায় প্রায় ১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিখ্যাত অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’ তাদের ভোরোনেজ লজিস্টিক সেন্টার থেকে দ্রুত কর্মীদের সরিয়ে নেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে কৌশলগত স্থানে হামলা বাড়ানোর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


