https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশে আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী নেতারা। গতকাল (১১ আগস্ট ২০২৬) ঢাকায় পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বিষয়ে এ তাগিদ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (অ্যামচেম) একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অপরদিকে, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন।
অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল জানান, তাঁদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। উপযুক্ত ও সহায়ক নীতিভিত্তিক পরিবেশ পেলে আগামী পাঁচ বছরে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসা সহজীকরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং সরকারি-বেসরকারি শক্তিশালী অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অ্যামচেমের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ নতুন অর্থনৈতিক রূপান্তরে প্রবেশ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, নীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং দক্ষ শাসনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করাই এখন সরকারের মূল অগ্রাধিকার।” তিনি মার্কিন বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং অ্যামচেম আয়োজিত ৩০তম ‘ইউএস ট্রেড শো’র শুভ উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, ইউএসবিবিসির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি দক্ষতা, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সরাসরি অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
অ্যামচেমের পক্ষ থেকে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি ‘ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম’ এবং ‘পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নকে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওয়ান-স্টপ সেবা দিতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ চালুর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বহুমাত্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কৌশলগত স্থানে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবগুলো সরকার পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি সব বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুরক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।


