https://asia24.tv


প্রতিকী ছবি ছবি: -প্রতিনিধি
রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন পারমাণবিক কৌশল প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও বিস্তৃত পারমাণবিক বিকল্প প্রদান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবির তত্ত্বাবধানে প্রস্তাবিত নতুন কৌশলে দূরপাল্লার কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বল্পপাল্লার ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া বা চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য আঞ্চলিক হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোই এ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
এই পদক্ষেপ সামনে এলো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস পর। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২০২১ সালে নবায়ন করা এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশের মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির কার্যকারিতা শেষ হলেও রাশিয়া জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে তারাও উত্তেজনা বাড়াবে না।
এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও এক বছরের জন্য চুক্তির শর্ত বজায় রাখার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়। তবে আনুমানিক ৬০০ পারমাণবিক ওয়ারহেডের অধিকারী চীন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোকেই নিরস্ত্রীকরণে প্রধান ভূমিকা নিতে হবে। এর জবাবে রাশিয়া ন্যাটোর পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকেও ভবিষ্যৎ চুক্তির আওতায় আনার দাবি তোলে।
অন্যদিকে, রাশিয়া সম্প্রতি তাদের পারমাণবিক নীতিও সংশোধন করেছে। নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো অ-পারমাণবিক দেশ যদি কোনো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের সহায়তায় হামলা চালায়, তবে সেটিকে যৌথ আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে বলে মস্কো সতর্ক করেছে।
সূত্র: আরটি।


