https://asia24.tv


গাজীপুরের রাস্তায় ঘরমুখো মানুষ। ছবি: -সংগৃহীত
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং তার ওপর টানা সরকারি ছুটির সুযোগ—এই দুই মিলে গাজীপুরের প্রায় ২০ শতাংশ শিল্পকারখানায় শুরু হয়েছে চার দিনের টানা ছুটি। জুলাই গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্টের ছুটির পর শুক্র ও শনিবারের নিয়মিত ছুটি ছিল। মাঝখানের বৃহস্পতিবার অনেক কারখানা বাড়তি ছুটি দেওয়ায় শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তা চার দিনের অবকাশে রূপ নিয়েছে। আর এতেই ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দেখা দিয়েছে ঈদের মতো ঘরমুখো মানুষের তীব্র ঢল।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে গ্যাসের ঘাটতির কারণে মালিকেরা উৎপাদন সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছেন। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং ও ডাইং খাতের কারখানাগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ফলে ৫ আগস্টের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা ছুটি ঘোষণা করেন অনেক মালিক। মঙ্গলবার বিকেল থেকে কারখানা ছুটি হওয়ার পরই মহাসড়কে যাত্রীদের ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ী ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিককে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু পরিবহন চালক তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সিরাজগঞ্জগামী পোশাককর্মী হাফিজুর রহমান ভোগান্তি প্রকাশ করে বলেন, ছুটি পেলেও চন্দ্রায় ঈদের মতো ভিড় ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
কারখানা মালিকেরা বলছেন, ছুটির সুযোগ নেওয়া হলেও উৎপাদন বন্ধ থাকায় তারা চরম আর্থিক দুশ্চিন্তায় আছেন। গ্যাসের অভাবে সময়মতো পণ্য রফতানি করা যাচ্ছে না, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকশিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় ৪৫ শতাংশ কম।
তিতাসের মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী এলাকায় সংকটের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি এবং সংকট নিরসনে কাজ চলছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, জেলার প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকেরা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছেন। অন্যদিকে নাওজোর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান জানান, অতিরিক্ত চাপের কারণে গাড়ি কিছুটা ধীরে চললেও মহাসড়কে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


