https://asia24.tv


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া। ছবি: -সংগৃহীত
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর শুধু ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়; বরং বাংলাদেশের আপামর জনতার সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এটি কেবল ২০২৪ সালের রক্তঝরা স্মৃতিগুলোকেই সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের এক অকৃত্রিম ধারক হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম দেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দেশের অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার স্বাধীনতাকামী মানুষ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সেই সময় স্বৈরাচারী সরকার গণঅভ্যুত্থান দমনে সাধারণ ও নিরস্ত্র মানুষের ওপর চরম নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। এমনকি নিরস্ত্র মানুষের ওপর আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকেও নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করা হয়েছিল।
আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বিগত দিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যতগুলো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রতিটির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করেন, এই বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্থান থাকবে না।
শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের দেওয়া ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও তাদের কাজ শুরু করেছে।
এ সময় তিনি জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে থাকা স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানান।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন। সেখানে সংরক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের আত্মত্যাগের নিদর্শন এবং তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন নির্মম কর্মকাণ্ডের আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় অংশ নেন।
তাৎপর্যপূর্ণ এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনেরা।


