https://asia24.tv


প্রতীকী ছবি ছবি: -সংগৃহীত
দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দোকানপাট, শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সময়সীমা নতুন করে কমিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার সময়সূচির পরিবর্তে এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশোধিত এই সময়সূচি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত ১১ জুন জারি করা সরকারি নির্দেশনায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধস নেমেছে। বর্তমানে দৈনিক লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে, যার কারণে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে সাধারণ মানুষ। একই সাথে চরম গ্যাসের ঘাটতিতে সিএনজি স্টেশন ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরও কিছু বিশেষ বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আলোকসজ্জা এবং রাস্তার পাশের আলোকিত বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, চলমান বাণিজ্য মেলা, ধর্মীয় উৎসব, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম—যেগুলোর জন্য বাড়তি সময়ের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
ঘোষিত এই নতুন সময়সূচি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সময়সীমা কমিয়ে আনা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জায় বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপের ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে। সরকার আশা করছে, এই জরুরি পদক্ষেপে পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং সার্বিক লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।


