https://asia24.tv


হামের টিকা। ছবি: -ফাইল ছবি
দেশে হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর প্রায় ছয় মাস পার হলেও সংক্রমণ ও প্রাণহানি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রতিদিনই গড়ে এক হাজার নতুন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে ৪ থেকে ৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যুতে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৮৬৭ জনে। এতে সরকারের টিকাদান কর্মসূচির প্রকৃত পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ভুলে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে। টিকাদান ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার লক্ষ্য ধরা হলেও জুন মাসের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুর উপস্থিতি সেই হিসাবের গরমিল সামনে এনে দেয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী জানান, কাগজে-কলমে শতভাগ বলা হলেও বাস্তব কভারেজ হয়েছে ৮১ শতাংশ। অথচ সংক্রমণ ঠেককাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ প্রয়োজন। এ ছাড়া বয়সসীমা বাড়িয়ে ১০ বা ১৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
টিকার কার্যকারিতা পরিমাপ করতে চলতি মাসেই বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। সংস্থাটির পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী জানান, ভ্যাকসিনের পর শিশুদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বিদেশ থেকে বিশেষ কিট আনা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শহর ও গ্রামের ৫০০ থেকে ৬০০ শিশুর রক্ত পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন লক্ষ্যমাত্রার ভুল স্বীকার করে জানান, স্বাস্থ্যকর্মীরা বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকা দিচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হুসাইন তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমানে ডিএনসিসি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকছেন, যার মধ্যে গুরুতরদের ঠাঁই হচ্ছে আইসিইউতে। চিকিৎসা ও সুনির্দিষ্ট টিকাদানের সমন্বয় না হলে এই মহামারি থামানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।


