ঢাকা
১৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত কমিটি জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে আগস্টে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আনছে সরকার রাষ্ট্রপতি পদে ২ প্রার্থীর ৩টি মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট সিদ্ধান্ত জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র: মাহদী আমিন ভারতসহ সব দেশ সফরের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফ্রান্সকে মানবাধিকার নিয়ে ‘জ্ঞান দেওয়া’ বন্ধ করতে বলল ইরান ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও পুনর্গঠনে বাংলাদেশের পাশে থাকবে এডিবি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩ মনোনয়নপত্র জমা, প্রার্থী মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ শাহবাগে চালু হলো আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরিতে লাগবে অনুমতি, নির্ধারিত হবে কারখানা
Advertise with us

৩১২ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল: কারণ খুঁজছে মন্ত্রণালয়, বাতিল হতে পারে এমপিও

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬   ৩ বার পঠিত
৩১২ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল: কারণ খুঁজছে মন্ত্রণালয়, বাতিল হতে পারে এমপিও

ছবি: -ফাইল ছবি

কুমিল্লার দাসনাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ১২ জন শিক্ষক মিলে ১ জন পরীক্ষার্থীকে পড়িয়েও পাস করাতে পারেননি। খুলনার আসমা সারোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষকের অধীনে ২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। পঞ্চগড়ের বলরামহাট বালিকা বিদ্যালয়ে ১ জন এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ে ৩ জনের কেউই পাস করেনি। একই চিত্র জামালপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (১১ শিক্ষকের অধীনে ৩ পরীক্ষার্থী), নরসিংদীর সুটুরিয়া ফজলুল হক দাখিল মাদ্রাসা (১৮ শিক্ষকের অধীনে ১৬ পরীক্ষার্থী) ও কিশোরগঞ্জের জাঙ্গালিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও (৮ শিক্ষকের অধীনে ৫ পরীক্ষার্থী)।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে এমনই বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে। এবার ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, যা গত বছরের চেয়ে ১৭৮টি বেশি। অকৃতকার্য ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২৬টিই মাদ্রাসা (প্রায় ৭২ শতাংশ)। এছাড়া সাধারণ বোর্ডের ৫৭টি ও কারিগরি বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান চরাঞ্চল, দুর্গম এলাকা ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫ জনের কম।

সারা দেশে প্রায় তিন শতাধিক ‘নামসর্বস্ব’ ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোতে পর্যাপ্ত ক্লাস বা পড়ালেখা হয় না বললেই চলে। এবার শূন্য পাসের হার বাড়ায় শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে। ইতিমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শোকজ করেছে। ঢাকা বোর্ডের অধীন শূন্য পাস করা ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও শোকজের প্রক্রিয়া চলছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব সরকারি সুবিধা নিয়ে একজন শিক্ষার্থীকেও পাস করাতে না পারলে এমপিও সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক বলেন, “শতভাগ ফেল অব্যবস্থাপনার ফল। গ্রাম ও শহরের শিক্ষার বৈষম্য দূর করতে কার্যকর মনিটরিং ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।” শিক্ষাবিদেরা মনে করেন, কেবল শোকজ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত একাডেমিক অডিট, শিক্ষকের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান যাচাই করা।

এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ১৬ থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে অঞ্চলভেদে ২২৬ জন মাদ্রাসা প্রধানকে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে। উপযুক্ত জবাব দিতে না পারলে এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa