https://asia24.tv


ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: -সংগৃহীত
তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম গোপনীয়তায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দেশটি থেকে সরিয়ে নেয় হোয়াইট হাউস। ইরানের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানের ওপর সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর হামলা চালানোর হুমকি থাকায় তাকে একটি খাবারের কার্টে লুকিয়ে সামরিক বিমানে তুলে সরিয়ে নেওয়া হয়। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তুরস্কে যাওয়ার সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় সাংবাদিকদের জানানো হয় যে, তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের বিমানেই ফিরবেন। এমনকি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই বিমানে উঠতেও দেখা যায়। কিন্তু তা ছিল শত্রুপক্ষকে ছদ্মবেশে বিভ্রান্ত করার একটি সাজানো পরিকল্পনা বা ‘ডিকয়’।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ার পরই ট্রাম্পকে খাবার পরিবহনের বিশেষ একটি বন্ধ কার্টে লুকিয়ে সুকৌশলে বিমানটির নিচের অংশ দিয়ে বাইরে বের করে আনা হয়। সেখান থেকে গাড়িতে করে তাকে গোপন অন্য একটি ‘সি-৩২এ’ সামরিক বিমানে (বোয়িং ৭৫৭-এর সামরিক সংস্করণ) নেওয়া হয়। ট্রাম্পকে নিয়ে ওই তৃতীয় বিমানটি গোপনে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ প্রথম এই গোপন ছদ্মবেশী অভিযানের সংবাদটি প্রকাশ্যে আনে।
বিষয়টিতে ইঙ্গিত দিয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং জানান, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। কারণ মার্কিন শত্রুরা তাকে ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছিল। মার্কিন প্রশাসনের এ ধরনের অভাবনীয় ও নাটকীয় পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তারা ইরানের দেওয়া সরাসরি হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচনা করেছিল।
কর্মকর্তারা আরও নিশ্চিত করেছেন, হুমকিটি কাতারের দেওয়া বিমানের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বিমানেই অবস্থান করতেন, সেটিই সম্ভাব্য হামলার শিকার হতে পারত। ফলে নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল।


