https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগদান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের সক্রিয় সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড।
বৈঠকে আরসিইপি জোটে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ জানায়, সদস্যপদ লাভের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিস্তারিত তথ্যাবলি জমা দেওয়া হয়েছে এবং দেশীয় বাণিজ্যিক কাঠামো সংস্কার করা হচ্ছে। জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এ প্রক্রিয়ায় নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সংবেদনশীল খাতে ১৫ থেকে ২০ বছরের শুল্ক নমনীয়তার প্রস্তাব করে ঢাকা।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক সংকট এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সামাজিক-অর্থনৈতিক রূপান্তরের কারণে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ। টেকসই প্রস্তুতির জন্য এই অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে জানিয়ে জাতিসংঘে নিউজিল্যান্ডের কূটনৈতিক সমর্থন চেয়েছে ঢাকা।
এ ছাড়া দুদেশের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের দুগ্ধ ও কৃষি পণ্যের জন্য বাংলাদেশের বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের পোশাক, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
সহযোগিতা জোরদারে বৈঠকে বাংলাদেশ তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়: একটি বার্ষিক ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি পরামর্শক গ্রুপ’ গঠন, এফটিএর জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের আবেদনের সমর্থনে দুই দেশের স্থায়ী মিশনের সমন্বয় জোরদার করা।


