https://asia24.tv


নদী ভাঙন। ছবি: -ফাইল ছবি
পিরোজপুরে কঁচা, বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও কালিগঙ্গা নদীর তীব্র ভাঙনে এক ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীগুলোর রাক্ষসী রূপ কেড়ে নিচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। অব্যাহত ভাঙনে গৃহহীন হয়ে হাজার হাজার পরিবার পাড়ি জমিয়েছে আশ্রয়ণ কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়দের বাড়িতে।
পিরোজপুর সদর, নেছারাবাদ, কাউখালী, মঠবাড়িয়া ও জিয়ানগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত। সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের চরলখাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি ইতোমধ্যে কঁচা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়টি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কালিগঙ্গা নদীর তীব্র গ্রাসে নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠি সীমানার শত শত বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে চলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মূল সড়ক এখন চরম হুমকির মুখে। স্থানীয়দের দাবি, কালিগঙ্গার তীরেই প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবন আজ বিপন্ন।
কাউখালী উপজেলায় সন্ধ্যা নদীর তিন দশকের তাণ্ডবে হোগলা, সোয়না, রঘুনাথপুর ও সোনাকুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পসহ বহু জনপদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। সর্বস্ব হারানো বুরুজান বিবি ও সুমন কুন্ডুদের আকুতি— দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ না দিলে শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে। এ ছাড়া জেলে ও শ্রমজীবী মানুষরা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে আশ্রয়হীন জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলায় ৬টি পোল্ডারে ৩৩৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ থাকলেও বড় একটি অংশ এখনও অরক্ষিত ও দুর্বল। পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান জানান, সন্ধ্যা, বলেশ্বর ও কঁচা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে একটি ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষা শেষ হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা কোনো সাময়িক প্রলেপ না চেয়ে নদীর গতিপথ বিবেচনা করে দ্রুত জিওব্যাগ ও টেকসই দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধসহ পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। টেকসই পদক্ষেপ না নিলে জেলার আরও বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বসতবাড়ি চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।


