https://asia24.tv


ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের ভুতুড়ে কেন্দ্র ছবি: -সংগৃহীত
কাগজে-কলমে সব নিয়মমাফিক চললেও বাস্তবে চলছে ভুতুড়ে কর্মকাণ্ড। ভোলা জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে হাজারেরও বেশি মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র ও মাদরাসা কাগজে-কলমে সচল দেখানো হলেও সরেজমিনে অধিকাংশের মিল মেলেনি। শিক্ষার্থীহীন শ্রেণিকক্ষ, তালাবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, কিংবা অস্তিত্বহীন কেন্দ্রের নামে প্রতি মাসে পকেটে যাচ্ছে সরকারি অর্থ। কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতি আর ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই চক্রের কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় ১,১৫১টি কেন্দ্রে ৩৮,৪১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত এবং শিক্ষক প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা সম্মানি পান। বছরে শুধু শিক্ষক সম্মানি বাবদ ব্যয় ৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। পাশাপাশি ১৪টি দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসার পেছনে ব্যয় হয় আরও প্রায় ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু জুলাই মাসে ভোলা সদর, দৌলতখান ও চরফ্যাশন উপজেলার ২০টি কেন্দ্র ঘুরে সরকারি তথ্যের সাথে বাস্তবের চরম বৈপরীত্য পাওয়া গেছে।
দৌলতখানের চরপাতা দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদরাসায় খাতায় ৪০ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও বাস্তবে কেবল শিক্ষক-কর্মচারীদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। শিবপুরের একটি মাদরাসায় এক দিন তালা ঝুলতে দেখা যায়, অন্য দিন মাত্র তিন জন শিশুর উপস্থিতি চোখে পড়ে। আবার বাপ্তা ইউনিয়নের একটি প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্রের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি; স্থানীয় প্রবীণ অধিবাসীরাও এমন প্রতিষ্ঠানের কথা শোনেননি। কোথাও আবার খোলা মাঠে পলিথিন বিছিয়ে নামমাত্র ক্লাস নেওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের স্ত্রী ও স্বজনদের নামে কেন্দ্র বরাদ্দ নিয়েছেন। অন্যদিকে নিজেদের ব্যক্তিগত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রকল্পের খাতায় তুলে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা উপপরিচালক এম. মাকসুদুর রহমান শিক্ষার্থী সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, ফিল্ড সুপারভাইজারদের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো তদারকি করা হয় এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সচেতন মহলের মতে, কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ এই দুর্নীতির জালে লাগাম টানতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং কঠোর মনিটরিং এখন সময়ের দাবি।


