https://asia24.tv


সবজি বাজার। ছবি: -সংগৃহীত
ভারতে কাঁচামরিচ আমদানির খবরের ইতিবাচক প্রভাবে রাজধানীর খুচরা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁচামরিচের দামে কিছুটা পতন ঘটেছে। গত সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত কমে বর্তমানে ঢাকার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা লাফিয়ে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছিল। আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর একাধিক কাঁচাবাজার পরিদর্শনের পর কেনাবেচার এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়।
বিক্রেতারা নিশ্চিত করেছেন যে, ভারত থেকে আমদানিকৃত চালান দেশে পৌঁছানো শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত কাঁচামরিচের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মগবাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা মো. সবুজ বাজার পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়িয়ে দেন। সম্প্রতি বৃষ্টির দোহাই দিয়ে দাম আকাশচুম্বী করা হয়েছিল। এখন আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কিছু কমলেও অতিরিক্ত মুনাফাভোগীরা মরিচের বড় অংশ স্টোরেই জমিয়ে রাখছে।” তিনি আরও জানান, টানা বৃষ্টির প্রভাবে অন্যান্য শীতকালীন ও সাধারণ সবজির বাজারে এখনো বাড়তি দাম বজায় রয়েছে।
কাঁচামরিচের কিছুটা স্বস্তি আসলেও সাধারণ সবজির বাজারে নিম্নমুখী প্রভাব খুব একটা স্পষ্ট নয়। বাজারে লম্বা বেগুন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে নামলেও গোল বেগুনের কেজি এখনো আকাশচুম্বী প্রায় ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা কমে শসার দাম মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ধুন্দল, পটল, ঝিঙা, লাউ ও চিচিঙার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিকোচ্ছে। কচুর লতি কেজিপ্রতি ৮০-১০০ টাকা ও কচুরমুখি ৭০-৮০ টাকা দরে স্থির রয়েছে।
সবজি কিনতে আসা মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। দুটি সাধারণ সবজি কিনতেই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা শেষ হয়ে যায়। তার ওপর মাছ ও মাংসের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে। কাঁচাবাজারে এসে সাধারণ মানুষের স্বস্তি পাওয়ার আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই।”
আমিষের বাজারেও উচ্চমূল্যের চাপ অপরিবর্তিত। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। ফার্মের সাদা ডিম ডজনপ্রতি ১৪০ টাকা এবং লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজার আরও বেশি চড়া। তেলাপিয়া ও পাঙাস মাছের কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বড় আকারের বোয়াল মাছ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা এবং ভালো মানের চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,৩০০ টাকায় উঠেছে। এদিকে বাজারে ইলিশের দাম চড়া রয়েছে; ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২,৫০০ টাকা কেজি এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩,২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।


