https://asia24.tv


সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান। ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে উদ্ভূত তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) সৌদি আরবের লোহিত সাগরের তীরবর্তী কৌশলগত শহর জেদ্দায় গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জের ধরে ইতোমধ্যে কৌশলগত উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হওয়ায় এই অঞ্চলের পরাশক্তিগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন করে জোরদারে বাধ্য হচ্ছে। এএফপিকে সৌদি সামরিক ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই কৌশলগত জোট গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিন দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে প্রক্রিয়াটি বেশ ত্বরান্বিত হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বর্তমানে জেদ্দায় অবস্থান করছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির ৬ থেকে ৮ আগস্টের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, সার্বিক সংকট ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এর একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত তাত্পর্য রয়েছে। মূলত পাকিস্তান ও তুরস্ক শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে; যেখানে পাকিস্তান ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাত প্রশমনে কাজ করছে এবং তুরস্ক গাজা সংকটে কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের যৌথ নিরাপত্তা সম্পর্ক আগে থেকেই গভীর ছিল। এখন ন্যাটোভুক্ত শক্তিশালী সামরিক শক্তির অধিকারী তুরস্কও এতে যুক্ত হওয়ায় একটি প্রভাবশালী ত্রিপক্ষীয় অক্ষ গড়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ভূ-রাজনীতি এবং নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন গতিপথ তৈরি করবে।


