https://asia24.tv


ছবি: -সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে কোনো সামরিক অভিযান চালালে কঠোর পাল্টা জবাব হিসেবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও কৌশলগত অবকাঠামো ধূলিসাৎ করার তীব্র হুমকি দিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই উদ্বেগজনক খবর সামনে এসেছে।
সূত্রগুলো জানায়, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নেটওয়ার্কে সরাসরি হামলার হুমকি দেওয়ার পর থেকে তেহরানের এই চরম কূটনৈতিক পদক্ষেপ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল—ইরান কোনো সংঘাত চায় না, তবে আক্রান্ত হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, শোধনাগার, তেলক্ষেত্র, বিদ্যুৎ গ্রিড ও অন্যান্য অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানবে। পাশাপাশি, ওয়াশিংটনের মিত্রদের মার্কিন প্রশাসনের ওপর কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির পরেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করতে এবং কূটনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার জোর পরামর্শ দেন। কাতার ও ওমানও ওয়াশিংটনকে নতুন সংঘাত এড়ানোর তাগিদ দেয়। পরবর্তীতে ২ আগস্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, একটি দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে তিনি আপাতত ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
তবে রিয়াদ এ-ও স্পষ্ট করেছে যে তেহরানের যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ বা ভূখণ্ডে আঘাতের জবাব সামরিকভাবেই দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোতে ভয়াবহ হামলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে হুঁশিয়ার করেছেন যে, এবার আঘাত এলে তার পরিণতি গোটা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই অগ্রহণযোগ্য হবে। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই বিশ্ব সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন—একদিকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জ্বালানি সংকটে ঠেলে দেওয়া, আর অন্যদিকে মার্কিন বিজয় ছাড়া একটি আপস চুক্তিতে আসা।


