https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
ভারত সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তি নিয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ৫৪১ জন শিক্ষার্থী। বৃত্তিপ্রাপ্তদের বিদায় জানাতে মঙ্গলবার রাজধানীর বারিধারায় বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (শিক্ষা) আনিষ রঞ্জন জানান, এবার সারা দেশ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৭০০টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ৫৪১ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে। তারা ভারতের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, আইসিসিআর বৃত্তি ভারত সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ শিক্ষা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভারতের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। এই কর্মসূচি দুই দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পড়াশোনার সময়টিই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। আমি সব সময়ই মনে করেছি, যদি সম্ভব হতো, সারাজীবন শিক্ষার্থী হয়েই থাকতে চাইতাম।”
তিনি আরও বলেন, “স্বপ্ন ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশা রাখতে হবে এবং তা পূরণ করার সাহসও থাকতে হবে। আজ সারা পৃথিবী তরুণদের দিকে তাকিয়ে আছে।”
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আইসিসিআর বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
দিনাজপুরের শিক্ষার্থী পিযুষ কান্তি দেব শর্মা পাঞ্জাবের একটি প্রতিষ্ঠানে কথক নৃত্যের ওপর সিনিয়র ডিপ্লোমা করতে যাচ্ছেন। অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এ সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অঙ্কিতা কর্মকার রবীন্দ্রসংগীত ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ পরিবেশন করেন। শুভ মণ্ডল গান শোনান ‘তোমার টানে সারা বেলার গানে’। এছাড়া পিযুষ কান্তি দেব শর্মা কথক নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন।


