https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
নিত্যপণ্যের বাজারে যেন কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের চড়া দামে বাজারে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সবচেয়ে বেশি তপ্ত কাঁচামরিচের বাজার, যেখানে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে খুচরায় ঠেকেছে ৪০০ টাকায়। এর পাশাপাশি পেঁয়াজ, ডিম, মুরগি ও মাছের বাড়তি দর মধ্য ও নিম্নবিত্তের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর নিউমার্কেট, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চরম অস্থিরতার চিত্র দেখা গেছে।
বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহে টান পড়ার অজুহাতে এখন প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অল্প পরিমাণে ২৫০ গ্রাম কিনলে ১০০ টাকা দিতে হলেও কেজিপ্রতি বা আধা কেজি কিনলে কিছুটা ছাড় মিলছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও যে মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা লাফিয়ে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে দেশি পেঁয়াজ। মাত্র ১০-১২ দিন আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় মিললেও পাইকারিতে দাম বাড়ার অজুহাতে খুচরা বাজারে পাবনার ভালো মানের পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়।
সবজির বাজারেও নেই কোনো স্বস্তির খবর। দু-একটি পদ ছাড়া অধিকাংশ সবজির কেজিই এখন ১০০ টাকার ওপরে। বাজারে লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, গোল কালো বেগুন ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া করলা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বরবটি ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় হাতবদল হচ্ছে। তবে ধুন্দুল ও পটলের দাম কিছুটা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমেছে।
আগের সপ্তাহের তুলনায় নতুন করে দাম বেড়েছে ডিমের। ফারমের লাল ডিমের ডজন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। তবে মুরগির বাজার কিছুটা অপরিবর্তিত রয়েছে; ব্রয়লার কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩ ৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাংসের বাজারে খাসি ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকা এবং গরু ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে গেছে।
প্রভাব পড়েছে আমিষের আরেক বড় উৎস মাছের বাজারেও। অধিকাংশ মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের ভরসা পাঙাশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায়। মানভেদে রুই ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধিতে বাজারে আসা ক্রেতাদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, বাজারে এসে প্রতি সপ্তাহেই নতুন দামে জিনিস কিনতে হচ্ছে। মরিচ, ডিম থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—সবকিছুর দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে কাটছাঁট করেও সংসারের হিসাব মেলানো আর সম্ভব হচ্ছে না।


