https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার মেধাবী তরুণ অনিক (২৭)। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই কফিনবন্দী হয়ে ফিরতে হলো নিজ গ্রামে। রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহত অনিক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে অনিকের মৃত্যু হয়। গত ২১ জুন তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর এক মাস ১২ দিন পর রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। শেষবারের মতো অনিককে একনজর দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাদ জোহর সওড়াতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের চাচা মুফতি আলী হোসেন ফারকী জানান, অনিক ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় যান। পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষের কাছেও তিনি গর্বের প্রতীক ছিলেন। অনিকের মা আগে থেকেই মারা গেছেন। পরিবারে বাবা ও বড় ভাই রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গত ২১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে অনিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আইলচারা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অনিকের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।”


