https://asia24.tv


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: -সংগৃহীত
দিল্লিতে অবস্থান করে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যে লাগাতার বক্তব্য ও অস্থিরতা তৈরির তৎপরতা চালাচ্ছেন, তার দায় ভারত কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চিরকালই ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রত্যাশা করা—এই দুটি বিষয় এক সঙ্গে চলতে পারে না।
সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, “ভারত যদি একই সাথে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলতে চায় এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বও ধরে রাখতে চায়, তবে তা পুরোপুরি পরস্পরবিরোধী।” দিল্লিতে বসে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বৈরশাসককে গণমাধ্যমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় কড়া আপত্তি জানান তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি বলে যে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে তারা সমর্থন করে না, তবে বাংলাদেশ সেই অবস্থানকে গ্রহণ করে। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একজনকে কীভাবে ভারত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে জায়গা দেয়—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। অতীত প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অতীতে নিজেই বলেছিলেন ভারতকে যা দিয়েছেন তা তারা আজীবন মনে রাখবে; তাই তাঁকে আশ্রয় দেওয়াকে সেই ‘প্রতিদানের’ অংশ বলেও মনে হওয়া স্বাভাবিক।
অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে কেবল ‘৩৬ দিনের ঘটনা’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি কোনো নিউটনের আপেল নয় যে নিজে থেকে গাছ থেকে ঝরে পড়েছে; বরং ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক অর্জন বিগত ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক লড়াইয়েরই ফল। দীর্ঘদিনের এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠা করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল ও ইউট্যাবের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা এ স্মরণীয় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।


