https://asia24.tv


সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। ছবি: -সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় জাতিসংঘের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ প্রতিবেদনে প্রাপ্ত প্রত্যক্ষদর্শীদের কোনো গোপণীয় (১) তথ্য বা পরিচয় প্রসিকিউশনকে সরবরাহ করেনি জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
আজ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউশন পক্ষ এই বিষয়টি তুলে ধরে। প্রসিকিউটর মোনাওয়ার জানান, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়, যা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। তবে যেকোনো অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার আন্তর্জাতিক নীতির কারণে জাতিসংঘ শর্ত দিয়েছিল—আইন থেকে মৃত্যুদণ্ড তুলে নিলেই কেবল প্রত্যক্ষদর্শীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও তথ্যসূত্র হস্তান্তর করা হবে। সে কারণে জাতিসংঘ থেকে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য মেলেনি, তবে প্রসিকিউশন নিজস্ব উদ্যোগে নতুন সাখ্খী (২) ট্রাইব্যুনালে হাজির করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই অনুসন্ধান চলাকালে পুরো দেশের আটটি প্রধান শহরে ২৩০টির বেশি সাক্ষাৎকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ৩৬টি বিশেষ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে নৃশংসতার জন্য তৎকালীন শাসকদলের নীতি নির্ধারকদের (৩) সরাসরি দায়ী করা হয়।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, জাতিসংঘের এ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ মামলার ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন এবং শেখ ওয়ালী আসিফ। বর্তমানে মামলার সকল আসামি পলাতক রয়েছেন।


