https://asia24.tv


ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: -ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অতি দ্রুত সমাপ্তির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, এই সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে কিছু সুনির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আমার ধারণা যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে। কারণ ওরা আর বেশিদিন টিকতে পারবে বলে মনে হয় না।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাহিনীর কাছে থাকা নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশই শেষ হয়ে গেছে।
গোলাবারুদের মজুত পরিস্থিতির কথা উঠলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, বেশ কিছু সর্বাধুনিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রায় অসীম। তবে একই সাথে নির্দিষ্ট কিছু গোলাবারুদের যোগানে যে টানাপোড়েন রয়েছে, তা-ও অকপটে মেনে নেন তিনি। ট্রাম্প যোগ করেন, অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো এখন নতুন কারখানা তৈরিতে ব্যস্ত, যার মধ্যে টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ফীত উৎপাদন কেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত।
রণকৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তা ছাড়া সামুদ্রিক এই সংকটের মাঝেও ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বহাল রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ৩০ বিলিয়ন ডলার চাওয়ার যুক্তি উপস্থাপন করে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান অবস্থানে আমরা সুবিধাজনক জায়গায় আছি, তবে সামরিক চাহিদার শেষ নেই।
অবশ্য ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ ট্রাম্পের কূটনৈতিক অবস্থানকে সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। আক্রমণ ও স্থগিতের এই ধারাকে ‘চক্রাকার নাটুকে কূটনীতি’ আখ্যা দিয়ে তিনি মার্কিন প্রশাসনকে ভুয়া খবরের কৌশল ছেড়ে বাস্তবতা মেনে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গত সপ্তাহেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সামরিক হামলা ও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের মুখেও প্রতিরোধ গড়ে তোলার যে সক্ষমতা ইরান দেখিয়েছে—তা শ্রদ্ধার যোগ্য।
অন্যদিকে, বুধবার তেহরান সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ওমানের সহায়তায় হরমুজ সংক্রান্ত একটি চুক্তি তারা চূড়ান্ত করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সমঝোতা তেহরানকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না করলেও যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে পুনর্বার পর্যালোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে।


