https://asia24.tv


ফাইল ছবি ছবি: -প্রতিনিধি
ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চান না। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সম্ভাব্য সমঝোতার মৌলিক কাঠামো বা সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যেই ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। অতীতেও তিনি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত যুদ্ধের অবসানের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও পরবর্তীতে নতুন করে সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনো চুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই দেখতে চান বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশগুলোও সপ্তাহান্তে সামরিক হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—উভয় ইস্যুতেই সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর অন্যতম কারণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর। সংস্থাটি দাবি করেছে, সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা ‘আরেকটি নতুন মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
এর আগে রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সোমবার সম্ভাব্য বৈঠক কোথায় হবে বা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হতে পারত। তার মতে, এমন পদক্ষেপ কয়েক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দিতে পারত এবং যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যেত।
অন্যদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।’


