https://asia24.tv


মার্কিন যুদ্ধ বিমান। ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে দেশটিতে টানা ১০ থেকে ১৪ দিন ধরে ভারী বিমান হামলার রণকৌশল তৈরি করছেন এক শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার জেরে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের প্রায় ২,৩৩০টি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করায় বর্তমানে এই সংখ্যা মাত্র ৭৫৯-এ নেমে এসেছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং থিংক ট্যাংক সংস্থাগুলো সতর্ক করলেও, অ্যাডমিরাল কুপার অতি দ্রুত যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করার পক্ষপাতি। এতে মার্কিন বিমান ও সরঞ্জামের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার কমবে বলে তাঁর ধারণা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে “কড়া আঘাত হানার” বার্তা দিলেও, মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও যুদ্ধ মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট কৌশলের অভাবে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল না থাকা এবং যুদ্ধের গতি নিয়ে হোয়াইট হাউসে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মাঝে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতিরিক্ত আগ্রাসী মূল্যায়নের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
সার্বিক পরিস্থিতির মাঝেই জর্ডানে সফল হামলা চালিয়ে নিজেদের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার জানান দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে যুক্ত হয়ে ইরাকে ইরান সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে পিএমএফ ও আইআরজিসির বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন পুরো অঞ্চল এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।


