https://asia24.tv


মাহদী আমিন। ছবি: -সংগৃহীত
বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ঢাকা সফরে আসছেন। সফরের সময় প্রতিনিধিদলটি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাঁদের এক বিশেষ সৌজন্য বৈঠকের কথা রয়েছে।
শনিবার বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এর আগে সকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের এই আগমন বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে একটি নতুন মাত্রায় উন্নীত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি গভীর আত্মবিশ্বাস ও আস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমুখী পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন।
তিনি আরও জানান, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। এর ফলে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে বাণিজ্য ও নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন, যা দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন জানান, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের এক তাৎপর্যপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত সরকারের আমলের বৈষম্যমূলক নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, কর ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার তাগিদ দেন।
প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি গতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা বিমানবন্দরসহ প্রধান বন্দরগুলোতে ২৪/৭ সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।


