https://asia24.tv


পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ছবি: -সংগৃহীত
দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যৎ রূপরেখা এখন সম্পূর্ণ ভারতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক—দুই দেশের সরকার এবং জনগণ উভয় পক্ষই তা প্রত্যাশা করে। তবে বাংলাদেশের আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করে যেভাবে ক্রমাগত বক্তব্য ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা দুদেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য মোটেও কোনো শুভ বার্তা বয়ে আনছে না।’
প্রতিমন্ত্রী কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ‘ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী ও সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার যদি অবিলম্বে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তা স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অর্থবহ। জলবণ্টনসহ বহু জমে থাকা জটিল ইস্যু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব এবং কূটনৈতিক পথেই তা এগোচ্ছিল। কিন্তু একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে দিল্লির মাটিতে রাজনৈতিক মঞ্চ ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনা সেই স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপথ কেমন হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় এখন সম্পূর্ণ দিল্লির।
‘তারা কি তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার ও তাঁর দোসরদের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি অব্যাহত রাখবে, নাকি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম প্রতিবেশী দেশের গণতান্ত্রিক জনআকাঙ্ক্ষাকে শ্রদ্ধা জানাবে—সেই অবস্থান এখন ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে,’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।


