https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
ইরানের সঙ্গে চলমান পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মজুতে থাকা অত্যাধুনিক নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় দেশটির সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ তথ্য সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (ATACMS) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (PrSM)। নিরাপদ দূরত্ব থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এসব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
খবরে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। শুরুতে সংঘাত স্বল্পস্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর মজুতে থাকা স্থলভিত্তিক এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহৃত হওয়ায় বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে নতুন করে অস্ত্র সরিয়ে মজুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং অন্তত ৩৮ শতাংশ THAAD ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। উৎপাদন বাড়ানো হলেও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চাহিদার তুলনায় তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের হামলা থেকে আপাতত বিরত রয়েছেন বলে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে আরেক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক চাপও এ সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি অস্ত্র রয়েছে এবং প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সামরিক সক্ষমতা দেশটির হাতে রয়েছে।
অন্যদিকে, পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে অভিযান পরিচালনার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তিনি জানান, মার্কিন জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডার বজায় রেখেই একাধিক কমব্যাট কমান্ডে সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।


