https://asia24.tv


শেখ হাসিনা। ছবি: -ফাইল ছবি
চলতি বছরের শেষভাগে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রস্তুতির খবরের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে কেন্দ্রীয় সরকার সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো তাঁকে হস্তান্তরের বা প্রত্যর্পণের আবেদনটি ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।
কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দেওয়া সরকারের ‘অ্যাকশন টেকেন’ প্রতিবেদনে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক’ শীর্ষক নবম প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত এসব পদক্ষেপের নথি পেশ করা হয়।
প্রতিবেদনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, দিল্লির আশ্রয়ে শেখ হাসিনার উপস্থিতি মূলত ভারতের বহু পুরোনো ‘মানবিক নীতি ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যের’ প্রতিফলন। যারা গুরুতর সংকট, নিপীড়ন বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে পড়ে, তাদের আশ্রয় দেওয়া ভারতের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। তবে এই আশ্রয়ের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক শর্ত কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়—ভারতের ভূখণ্ডকে অন্য কোনো সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তৎপরতা বা কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। সংসদীয় কমিটিও সংবেদনশীল এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের মাধ্যমে সামলানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে।
নথিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বন্ধ থাকা পর্যটক ভিসা সেবা প্রায় দুই বছর পর সম্প্রতি ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে। কমিটি মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে ভিসা স্বাভাবিক না থাকলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্তরে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ ছাড়া, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক চুক্তিটি চলতি বছরেই শেষ হতে চলায় দ্রুত ঢাকার সঙ্গে নবায়ন আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। সর্বশেষ হাইড্রোলজিক্যাল বা জলবিদ্যাগত তথ্য, নদীর রূপ পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সরকারের সম্মতিতে নতুন কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে সবসময় বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছে এই সংসদীয় কমিটি।


