https://asia24.tv


ছবি: -ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক জোটে বড় ধরনের ভাঙনের আভাস মিলছে। আসন সমঝোতা, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে মতবিরোধের জেরে সম্প্রতি এই জোট ত্যাগ করেছে খেলাফত মজলিস। এবার জোটটির অন্যতম প্রধান শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) জোটে থাকার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান গভীরভাবে পুনর্মূল্যায়ন করছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির ভেতরের নীতিপ্রণেতারা বর্তমানে জামায়াত জোটে থাকার রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করছেন। পাশাপাশি কওমি ঘরানার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নতুন সমঝোতা তৈরি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্প একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা জোট গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখছেন তারা। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের একাংশের মতে, একটি বৃহৎ ও স্বতন্ত্র জাতীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য তাদের রয়েছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থেকে তা অর্জনের সুযোগ বেশ সীমিত। পক্ষান্তরে, নতুন কোনো রাজনৈতিক মোর্চা গঠিত হলে সেখানে এনসিপির নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
গত সংসদ নির্বাচনের আগে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র আওতায় ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট এক ছাতার নিচে আনার লক্ষ্যে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল মিলে মূলত এই জোটের সূচনা করেছিল। পরবর্তী সময়ে এনসিপি, এবি পার্টি এবং এলডিপি যুক্ত হলে এটি ১১-দলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে নির্বাচন শুরুর পূর্বমুহূর্তে আসন বণ্টন ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যায়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এসে এই জোটের শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক দূরত্ব আরও বাড়ে। গত ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ত্যাগের ঘোষণা দিলে সেই সংকট চরম আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে কওমি ঘরানার একাধিক ইসলামী দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এনসিপি নেতৃত্বের বেশ কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্য জানান, জুলাই মাসের দলীয় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ নীতিপ্রণেতারা।
অন্যদিকে, জামায়াত জোট ছাড়ার আলোচনার মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগাম সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি। ইতোমধ্যে দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে। তবে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা হলে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করা হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা নীতিগতভাবে জোটগত অবস্থানের পক্ষেই আছেন, তবে পরিস্থিতির আলোকে বিভিন্ন বিকল্পও আলোচনায় রাখা হয়েছে।
এদিকে ইসলামপন্থী দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে হেফাজত ইসলামের উদ্যোগে একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় সাতটি ইসলামী দলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে এনসিপি যুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো বার্তা না এলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী দাবি করছে, তাদের নেতৃত্বাধীন জোটকে দুর্বল করার জন্য পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জোটের ভেতরের যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তারা প্রস্তুত এবং এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক তৎপরতা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়।


