https://asia24.tv


দ্য আইরিশ টাইমে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম। ছবি: -সংগৃহীত
এক ব্যক্তি একসময় পোষা পাখির পরিচর্যা করে দিন কাটাতেন। কিন্তু প্রাণঘাতী মাদক ইয়াবায় আসক্ত হওয়ার পর তাঁর সেই জীবন বদলে গেছে। অগোছালো শোবার ঘরে শুয়ে তিনি আফসোস করে বলেন, ‘এই জিনিসটা আমার মনমানসিকতা একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
মায়ানমার থেকে আসা মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের বিষাক্ত মিশ্রণ ‘ইয়াবা’ বাংলাদেশে এখন এক ধ্বংসাত্মক মহামারিতে রূপ নিয়েছে। থাই ভাষায় যার অর্থ ‘পাগল করা ওষুধ’। সরকারি হিসেবে দেশের ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের প্রায় ৫ শতাংশই কোনো না কোনো মাদকে আসক্ত, যার সিংহভাগজুড়ে রয়েছে ইয়াবা। আয়ারল্যন্ডের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য আইরিশ টাইমস’-এ বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার নিয়ে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করা হয়েছে। এর আগেও ২০১৮ সালে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়। তবে কঠোর দমনপীড়ন বা আইন প্রয়োগ সত্ত্বেও ইয়াবার সহজলভ্যতার কারণে আসক্তের সংখ্যা কমেনি; বরং ঢাকায় রাস্তায় তরুণ ও রিকশাচালকদের মধ্যে এই বড়ি কেনাবেচার দৃশ্য এখনো নিত্যদিনের ঘটনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দমনপীড়নের চেয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নই এই সংকট মোকাবিলার মূল উপায়। কিন্তু সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মাত্র ৩৫০ জনের মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। ফলে মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা কিংবা পারিবারিক ও সামাজিক সংকটে পড়া তরুণরা উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে সহজেই মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ৯০ শতাংশ মানুষই কোনো সেবা পান না।
বর্তমানে বাজারে সস্তা ও দামি—দুই ধরনের ইয়াবাই পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এই মাদক সেবনে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া, খিঁচুনি ও স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি হয়। আসক্তরা টানা কয়েক দিন জেগে থাকার পর মারাত্মক অবসাদে ভোগে। ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, তরুণদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং বেকারত্ব মানুষকে আরও বেশি মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সস্তায় মেলা এই ট্যাবলেট মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যাকে আসক্তরা বর্ণনা করছেন ‘নিখুঁত ও ধীরগতির বিষপ্রয়োগ’ হিসেবে।


