https://asia24.tv


ডলার। প্রতীকী ছবি ছবি: -ফাইল ছবি
আমদানি দায় শোধের চাপ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ কমায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আন্তঃব্যাংক বাজার ও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার মধ্যে রাখার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে একাধিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আন্তঃব্যাংক দর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সীমার কাছাকাছি থাকলেও রেমিট্যান্সের ডলার ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯৫ পয়সার নিচে মিলছে না। আবার সোমবার কোনো কোনো ব্যাংক ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায়ও এলসি নিষ্পত্তি করেছে। ব্যাংকাররা মনে করছেন, কৃত্রিমভাবে দর নির্ধারণ করে দিলে আন্তঃব্যাংক বাজার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবধান বেড়ে বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূলত রাজনৈতিক কারণে ও মূল্যস্ফীতি কম দেখাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে এমন হস্তক্ষেপ করে। তবে মৌখিকভাবে দর বেঁধে দেওয়ার এই নীতি ভুল বার্তা দেয় এবং ডলারের বাজারকে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা উচিত।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়ে আসছে। বর্তমানে আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হস্তক্ষেপ সংস্থাটির শর্তের পরিপন্থী হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০.৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি সামান্য হলেও প্রবাসী আয় আশানুরূপ না হওয়ায় এবং প্রবাহের তুলনায় বহির্গমন বেশি থাকায় চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের ডলার সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যেকোনো পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।


