https://asia24.tv


মৃতদেহ গণদাফন করা হচ্ছে ছবি: -সংগৃহীত
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাব চরম ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ১,৩০৯ জনে পৌঁছেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মৃত্যুর হার ৪০ শতাংশের বেশি বাড়ায় গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। সরকারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,৯৭৩ জন, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এযাবৎকালের সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা ইবোলা প্রাদুর্ভাব। এবারে ছড়ানো ‘বান্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) প্রজাতিটি অত্যন্ত বিরল এবং এর বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো টিকা বা ওষুধ নেই। ফলে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত একটি পরীক্ষামূলক টিকার ট্রায়াল সম্প্রতি শুরু হয়েছে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুলসালামি নাসিদি জানান, টিকার অভাব এবং সংঘাতময় অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৩-১৬ সালের প্রাদুর্ভাবে প্রথম এক হাজার মৃত্যু হতে সময় লেগেছিল ৮ মাস; কিন্তু কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে তা ঘটেছে মাত্র ১০ সপ্তাহের কম সময়ে। আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এটি বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক প্রাদুর্ভাবে রূপ নেবে।
সংকটের গভীরতা বাড়াচ্ছ অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত দুর্বলতা। আল জাজিরা জানায়, গোমা শহরে স্বাস্থ্যকর্মীরা অপর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী নিয়ে কাজ করছেন। মে মাস থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইতুরি প্রদেশে পাওনা ভাতা ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের অভিযোগে চিকিৎসক ও নার্সরা ধর্মঘট শুরু করায় বুনিয়ার এলিকিয়া চিকিৎসাকেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি মে মাসে একটি ইবোলা কেন্দ্রে ক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে জানিয়েছেন, সংঘাতের কারণে অনেক দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।


