https://asia24.tv


আইসিডিডিআরবি লোগো। ছবি: -ফাইল ছবি
দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া। আর এ ধরনের সুপারবাগের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার দাঁড়াচ্ছে ৯০ শতাংশের বেশি। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) দুটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শনিবার (২৫ জুলাই) সংস্থাটি এ তথ্য প্রকাশ করে।
গবেষণার ফলাফল বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম’ ও ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোল’-এ প্রকাশিত হয়েছে। রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ও এনআইসিইউতে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চিকিৎসা নেওয়া রোগী ও নবজাতকদের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে গবেষণা দুটি পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাসপাতালগুলোতে প্রধানত চারটি গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া—ই-কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনি, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি ও সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা বিস্তার লাভ করছে। গবেষণায় দেখা যায়, ভর্তি হওয়া প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের প্রায় ৪৮.৫ শতাংশের শরীরে আগেই এসব ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান ছিল (কলোনাইজেশন)। তবে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, আইসিইউতে আসার সময় যাদের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া ছিল না, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের ৫৩ শতাংশ নতুন করে এতে আক্রান্ত বা সংক্রমিত হয়েছেন। হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখা গেছে, শরীরে সুপ্ত থাকা এসব ব্যাকটেরিয়াই একপর্যায়ে মারাত্মক প্রাণঘাতী সংক্রমণে রূপ নিচ্ছে।
গবেষকরা জানান, হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি, পরিচ্ছন্নতার অভাব, চিকিৎসা সরঞ্জামের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের ফলেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ মানুষ নতুন করে এই জটিল ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হচ্ছেন।
গবেষণার মুখ্য গবেষক ও আইসিডিডিআর,বি-র এএমআর রিসার্চ ইউনিটের প্রধান ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, “হাসপাতাল মানুষের আরোগ্যের জায়গা, কোনোভাবেই নতুন রোগের উৎস হওয়া উচিত নয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার, কঠোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে।”


