https://asia24.tv


সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ছবি: -সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের অঞ্চলে সামরিক হামলা বন্ধের জোরালো সুপারিশ করেছেন। এই সামরিক অভিযান তার কার্যকারিতার শেষ সীমায় পৌঁছেছে—অ্যাডমিরাল কুপারের এমন মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানে সাময়িক হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল কুপার পেন্টাগন, জয়েন্ট চিফস ও হোয়াইট হাউসে পাঠানো সুপারিশে উল্লেখ করেন, গত দুই সপ্তাহের ধারাবাহিক হামলায় জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা বহুলাংশে কমে গেছে। একই সঙ্গে অভিযানের জন্য পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই ইতোমধ্যে ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের কৌশলগত অভিযান না চালালে আগের মতো কেবল নিয়মিত আকাশপথে বোমা হামলা চালিয়ে বাড়তি কোনো সফলতা আসবে না।
মার্কিন প্রশাসনের সামরিক ও বেসামরিক উপদেষ্টা উভয় পক্ষই স্বীকার করেছেন যে, কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে সংঘাতের সব রাজনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিলে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
টানা দুই সপ্তাহের প্রবল উত্তেজনার পর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের ভিত্তিতে ট্রাম্প এই প্রথম হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলেন। মূলত নতুন করে বড় সামরিক অভিযানে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এসে তিনি সাময়িকভাবে রণক্ষেত্রের উত্তেজনা প্রশমনের পথ বেছে নিয়েছেন।
বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সমর্থন করবেন কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ট্রাম্প আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা জোরদার ও মাইন অপসারণে আন্তর্জাতিক জোট গঠনে চলতি সপ্তাহে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ডাকার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।


