ঢাকা
২৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ, চমেকে ভর্তি দগ্ধ পাঁচজনের সবার মৃত্যু বি-১ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানে মার্কিন হামলা জোরদার: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অটল বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সাংবিধানিক বিষয়, সরকারের ভূমিকা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন-সৌদি পরমাণু চুক্তিতে ইসরায়েলের উদ্বেগ: মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা ২৭ জুলাই শুরু দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: ব্যবসা সম্প্রসারণে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস
Advertise with us

মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক সংকট, বিরোধীদের সামনে বড় সুযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬   ১৪ বার পঠিত
মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক সংকট, বিরোধীদের সামনে বড় সুযোগ

ছবি: -সংগৃহীত

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের তৈরি নতুন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ মোদি সরকারের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। তরুণদের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভের কারণে গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আন্দোলন অভাবনীয় সাড়া ফেলে। আন্দোলনের শুরুর দিকে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তরুণ সমাজ সরকার কিংবা বিরোধী কোনো দলের ওপরই আস্থা রাখতে পারছে না, কারণ কেউ এতদিন যুব সমাজের মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।

তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এই ঘটনার পর সিজেপি নেতারা বিরোধী দলের সাংসদদের সাহায্য চান। পুলিশের আক্রমণে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হলে বিরোধী দলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণ আন্দোলনকারীদের সমর্থন করা বিরোধীদের জন্য এক বড় রাজনৈতিক সুযোগ। অন্যদিকে বিরোধীদের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার কারণে সিজেপির এই আন্দোলনটি দেশজুড়ে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আন্দোলনকারীরা মূলত ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন। সহিংস দমনপীড়নের নানা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের প্রায় সবকটি বিরোধী দল এই আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন প্রকাশ করেছে। যদিও আন্দোলনটির নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করবেন না কিংবা নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

গবেষকদের ধারণা, বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বড় প্ল্যাটফর্ম ও জাতীয় স্তরে পৌঁছানোর সুযোগ পেলেও এতে একটা ঝুঁকি থেকে যায়। অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের আসল দাবি- যেমন প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো ও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করা—অন্যসব বড় রাজনৈতিক আলোচনার ভিড়ে হারিয়ে যেতে পারে।

ভারতের বিশাল জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় তরুণ সমাজের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। ভারতের পরবর্তী বড় নির্বাচনগুলোর আগে এই ঘটনাটি বেশ গুরুত্ব বহন করছে। এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, শিক্ষার্থীদের ইস্যুতে সরকারের ওপর যে তীব্র জন অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, বিরোধীরা তা বুঝে গিয়েছেন। তাই আন্দোলনকারীরা যেন দিকহারা না হয়ে পড়েন এবং সরকারি চাপ সহ্য করতে পারেন, সেজন্য বিরোধীরা যুবসমাজকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

এই রাজনীতির মাঝেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের জোর দাবি তোলেন। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে রাহুল গান্ধী জানান, দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত মানে পুরো ভারতের পরিবারের ওপর হামলা চালানো। এই ঘটনায় মোদি সরাসরি মুখ না খুললেও তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সরকার কঠোর নীতি গ্রহণ করছে।

সব মিলিয়ে ভারতে এখন তরুণ ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার বড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সিজেপির মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের এই লড়াই কোনো দলীয় আন্দোলন নয়, বরং সাধারণ ছাত্র ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। বিরোধী দলগুলোর সমর্থনকে তারা স্বাগত জানালেও, কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বা দলকে এই লড়াই নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তারা সতর্ক করেছেন।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa