https://asia24.tv


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। প্রতীকী ছবি। ছবি: -ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান টানা তৃতীয় রাতের মতো পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা বন্ধ রাখায় মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা এবং তার জবাবে মার্কিন বাহিনীর টানা ১৩ রাতের তীব্র বিমান হামলার পর এই কৌশলগত বিরতি এলো।
যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু হয়নি, তবুও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পর্দার আড়ালে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিশ্চিত করেছে। তবে দুই দেশের প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে এবং ইতিবাচক কথাবার্তা হচ্ছে। ট্রাম্প সমঝোতার পাশাপাশি সতর্ক করেছেন যে ব্যর্থ হলে কঠিন পরিণতি হবে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি আলোচনার খবর নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, তারা কোনো শান্তির অনুরোধ পাঠায়নি, কেবল মধ্যস্থতাকারীদের বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
সাম্প্রতিক এই সংঘাত শুরু হয়েছিল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলাকে কেন্দ্র করে। এর জবাবে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের বহু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাল্টা হামলায় জর্ডান ও ইরাকে চারজন মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে গত শনিবার ট্রাম্প মার্কিন হামলা আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। তবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে হামলা থামানো হয়েছে—এমন খবর ট্রাম্প উড়িয়ে দিয়ে জানান, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের পর্যাপ্ত মজুত তাদের রয়েছে।
এদিকে আল জাজিরা জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের মূল লক্ষ্য গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পুনরুজ্জীবিত করা। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ম ও টোল ব্যবস্থা নিয়ে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ওমান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর জন্য ঐচ্ছিক টোলের প্রস্তাব দিলেও ইরান এটিকে বাধ্যতামূলক করার পক্ষে অনড় অবস্থান নিয়েছে। ইরানের দাবি, যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিস্থিতিতে আর ফেরা সম্ভব নয় এবং নৌপথের নিরাপত্তার বিনিময়ে যেকোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ বা ফি আদায়ের ব্যবস্থা বহাল রাখতেই হবে। চূড়ান্ত সমাধান থেকে উভয় পক্ষ এখনো বেশ দূরে থাকলেও সামরিক বিরতি বজায় থাকায় আলোচনার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।


