https://asia24.tv


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: -সংগৃহীত
সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি পাচ্ছে। চুক্তির আওতায় পারমাণবিক শক্তি খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর শত কোটি ডলারের বড় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে।
সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয়টি হলো, চুক্তির অধীনে ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম কোনো দেশকে এমন অনুমতি দিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভর না করে মার্কিন প্রযুক্তির স্থাপনায় নিজস্ব জ্বালানি তৈরির এই সুযোগ সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এনে দিতে পারে।
পরমাণু অস্থিতিশীলতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও থিঙ্কট্যাংক গবেষকরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট স্পষ্ট করেছেন, এ চুক্তিতে সর্বোচ্চ পারমাণবিক নিরাপত্তার শর্ত বজায় রাখা হয়েছে, যা নিরস্ত্রীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তা সহজে পাস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই বহুমুখী চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


