https://asia24.tv


ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে। ছবি: -সংগৃহীত
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন করেছে সরকার। এর ফলে মেগা প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭,০৪৫.৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের সময়সীমা চার বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই সংশোধিত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১৬,৯০১.৩২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। তবে কাজের অগ্রগতি বিবেচনা করে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ১৭,৫৫৩ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এবার একনেকের দ্বিতীয় সংশোধনীতে সরকারি তহবিল থেকে অতিরিক্ত ৫,৯৪২ কোটি টাকা এবং ঋণ হিসেবে ৩,৫৫০ কোটি টাকা যুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন, প্রকল্পের মূল নকশায় একাধিক পরিবর্তন, নতুন অবকাঠামো যুক্ত করা, জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটি স্থানান্তর জটিলতার কারণে মূলত ব্যয় ও সময় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৮০.৫৭ টাকা ধরা হলেও দ্বিতীয় সংশোধনীতে তা বেড়ে ১২১.৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডলারের উচ্চ হারের কারণে ঠিকাদারদের বকেয়া পরিশোধেই অতিরিক্ত ৩,৭৩৬.৬১ কোটি টাকা খরচ বাড়ছে, যা মোট বৃদ্ধি পাওয়া ব্যয়ের প্রায় ৩৯.৩৬ শতাংশ। এছাড়া আমদানি করা সামগ্রীর ওপর শুল্ক, ভ্যাট ও কর বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ১,৪০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে।
নকশাগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী তুরাগ নদীর শাখাগুলোর নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্স ৭.৬২ মিটার থেকে ১২.২ মিটারে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্প্যান ও ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করায় অতিরিক্ত ৫৯৭.৬৬ কোটি টাকা খরচ যুক্ত হয়েছে। ঢাকা-টঙ্গী রেল লাইন সম্প্রসারণের সুযোগ রাখতে সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনায় অতিরিক্ত ১৫৩.২০ কোটি টাকা খরচ বাড়ছে। এছাড়া বাইপাইলে নতুন ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ, বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ র্যাম্প এবং পরিধি বৃদ্ধিতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা নতুন ব্যয় যুক্ত হয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণের জমি ১০.৮৯ হেক্টর থেকে বাড়িয়ে ১৪.৫ হেক্টর করার কারণে আরও ৭৪৭.৫৫ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন সরানোর কাজে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫১৫ কোটি টাকা।
২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন কাওলা থেকে শুরু হয়ে আশুলিয়া হয়ে সাভারের শ্রীপুর পর্যন্ত যাবে। তৈরি পোশাকশিল্প অধ্যুষিত ঢাকা ও আশপাশের এলাকার তীব্র যানজট নিরসন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দ্রুত পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চীনের সিএমসির সঙ্গে চুক্তির পর ২০২২ সালের অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে অবকাঠামোটির দুই বছরের ত্রুটি দায়বদ্ধতা কালসহ (ডিএলপি) পুরো কাজ সমাপ্ত হবে।


