https://asia24.tv


সোহাগী জাহান তনু। ছবি: -ফাইল ছবি
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন করে আরও দুজনের ডিএনএ পরীক্ষা ও ভিকটিমের পোশাকের নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট–১ আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন আদেশ পাওয়া দুজন হলেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ফয়সাল আহমেদ (রাব্বী)। তাদের মধ্যে সাবেক সৈনিক জাহিদুলের বিরুদ্ধে ঘটনার শুরু থেকে তনুর পরিবার অভিযোগ তুলে এলেও এতদিন নথিপত্রে তাঁর নাম আসেনি। তনু হত্যার সময় জাহিদুল কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে জানান, তনুর জব্দ করা পোশাক পর্যালোচনায় একাধিক পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। ওই ডিএনএর সঙ্গে জাহিদুল ও ফয়সালের রক্তের নমুনা মেলানোর অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, “এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। অপরাধী শনাক্তকরণ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করা প্রয়োজন।“
এর আগে গত ৬ এপ্রিল আরও তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান বর্তমানে কারাগারে। অপর দুজন—সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের ভেতর তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পিবিআই কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশনামা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।


