ঢাকা
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
নতুন পে-স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে আনসার-ভিডিপিকে জোরালো ভূমিকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে আইপিইউ বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মাটি সংকটাপন্ন, হুমকিতে বৈশ্বিক খাদ্য ও জীববৈচিত্র্য ‘মব’ সৃষ্টির অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুন্দরবনে ৫২ দস্যুর আত্মসমর্পণ, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান পে-স্কেল বাস্তবায়নে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা বোয়িং কেনায় চাপ নেই, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তারেক রহমানের ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপির হাত ধরেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী সরকারি খাতে অর্থের অপচয় নিয়ে আপস করা হবে না : অর্থমন্ত্রী
Advertise with us

তরুণ উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬   ৬০ বার পঠিত
তরুণ উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  ছবি: -সংগৃহীত

তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা জামানত ছাড়া ঋণ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

ঢাবির সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আইসিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে ৫০০ কোটি টাকার মতো বাজেট রাখা হয়েছে। এই ফান্ড থেকে ৫ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপনার (শিক্ষার্থী) মতো যদি এমন উদ্যোক্তা থাকে একদম ফ্রেশ স্টার্টআপ, আপনাকে ব্যাংকের যে হ্যাসেলগুলো (ঝক্কি-ঝামেলা), বিভিন্ন রকম সম্পদের সিকিউরিটি দিতে হয়, বিভিন্ন রকম কাগজপত্র দিতে হয়, এর ভেতর দিয়ে আপনাকে যেতে হবে না। আপনি আসবেন, আপনার প্রজেক্ট দেখবে একটা কমিটি। সেখানে মন্ত্রী সাহেবও নাই, অ্যাডভাইজার সাহেবও নাই। একদম পিউর একটা কমিটি করা হয়েছে। তারা প্রজেক্ট দেখবেন, দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে উইদাউট এনি কোলাটেরাল (জামানত ছাড়া) আপনাকে ফান্ড করবে।’

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া প্রান্তিক পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আপনি বলেছেন যে স্টার্টআপ শুধু ঢাকা শহর কেন্দ্রিক নয়, সারা দেশে যাতে হয়। স্টার্টআপের এ বিষয়টা আমরা নতুনভাবে শুরু করতে চাইছি। আমরা চাইছি যে আপনাদের মতো তরুণ উদ্যোক্তা যারা আছেন, তারা আস্তে আস্তে আসুক। আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছাতে চাইছি। একটু সময় লাগবে। আমরা যদি সকলে মিলে আন্তরিকভাবে কাজ করি, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।’

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তরুণরাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অগ্রগতির নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ কখনোই সহজ নয়। সফলতা অর্জনের জন্য নানা ধরনের প্রতিকূলতা, ব্যর্থতা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়। দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। তিনি বলেন, জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজেও নানা প্রতিকূলতা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং অপমানের মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের মধ্য দিয়েই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাই নতুন উদ্যোক্তাদেরও ধৈর্য ধরে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার নীতিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণদের মেধা ও দক্ষতা তাকে আশাবাদী করেছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য, দক্ষ ও প্রযুক্তিবান্ধব একটি প্রজন্ম গড়ে উঠছে, যা দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর উদ্বোধন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকেই গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে সিনেট ভবনে আয়োজিত স্টার্টআপ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন ধারণা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

এ দিন জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সফল উদ্যোক্তারা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নির্বাচিত স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করেছে। আয়োজকরা জানান, সিনেট ভবনে আয়োজিত স্টার্টআপ প্রদর্শনী ১৫ জুলাই বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa