ঢাকা
১৭ জুলাই ২০২৬
Advertise with us

ফাইনালের আগে বড় শাস্তির শঙ্কায় আর্জেন্টিনা

ডেস্ক রিপোর্ট
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬   ২ বার পঠিত
ফাইনালের আগে বড় শাস্তির শঙ্কায় আর্জেন্টিনা

ছবি: -সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর একটি পতাকা নিয়ে বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা। এই পতাকার কারণে দলটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে ফিফা।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নাটকীয় জয়ের পর মাঠে হাজির হন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো। তার হাতে ছিল একটি পতাকা। সেখানে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’, অর্থাৎ ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’।

শুরুতে দর্শকদের মধ্যেই এই পতাকা দেখা গিয়েছিল। এরপর সেটি হাতে নেন লো সেলসো। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নিকোলাস ওতামেন্দিও তার সঙ্গে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর পতাকাটি সরিয়ে রাখেন তিনি। পরে সেটি মাঠেই মেলে ধরেন তিনি।

ফুটবলের নিয়ম তৈরির সংস্থা আইএফএবি এবং ফিফার নিয়মে রাজনৈতিক পতাকা, স্লোগান বা প্রতীক নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। আইএফএবির নিয়মে বলা আছে, ‘পোশাকে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি থাকতে পারবে না। খেলোয়াড়রা নির্মাতার লোগো ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা বিজ্ঞাপনসংবলিত অন্তর্বাস দেখাতে পারবেন না। এমন কোনো লঙ্ঘনের জন্য প্রতিযোগিতা আয়োজক, জাতীয় ফুটবল সংস্থা বা ফিফা খেলোয়াড় ও দলকে শাস্তি দিতে পারবে।’

সাধারণত ম্যাচ শেষে বিভিন্ন প্রতিবেদন জমা পড়ার পরই সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। সব প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করবে তারা। এরপরই ঠিক করবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। এই সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

‘লাস মালভিনাস’ শব্দটি আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটেনের অধীনস্থ একটি এলাকা। এটি আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ডের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত।

এই বিরোধের শুরু ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে, নেপোলিয়ন যুদ্ধের সময় ব্রিটেনের আর্জেন্টিনা আক্রমণ থেকে। ব্রিটেন প্রথমে ১৭৭৪ সালে ফকল্যান্ডের দাবি করে। এরপর ১৮৩২ সালে আবার নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে তারা। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার এই দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করে। সেই সংঘর্ষ শুরু হয় ২ এপ্রিল, শেষ হয় ১৪ জুন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করে। এই যুদ্ধে তিনজন সাধারণ নাগরিক, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা মারা যান।

যদি এই পতাকাকে রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে এটি ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিও লঙ্ঘন করবে। ফিফার নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকায় বলা আছে, ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক বা এই ধরনের যেকোনো সামগ্রী, যা রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির এবং কোনো দেশ, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি করে, তা নিষিদ্ধ।

গত জুন মাসে বিপ্লব-পূর্ব ইরানের পতাকার ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে বহাল রাখা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে করা একটি মামলার শুনানিতে এই রায় আসে।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে। এই জয় পেলে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দল হবে তারা।

Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa