https://asia24.tv


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত প্রভাব রেখেছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ছবি: -সংগৃহীত
সাড়ে তিন বছর পর আর্জেন্টিনা আবারও চলে গেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে লিওনেল মেসির দল নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে।
এই ম্যাচের পর সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগি এক বার্তা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর যা বলেছিলেন, সেটাই আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
২০২২ বিশ্বকাপে নিজেদের শুরুর ম্যাচে সে ম্যাচে হারের পর মেসি বলেছিলেন, ‘আশা হারাবেন না, এই দল আপনাকে কখনো হতাশ করবে না।’
হুবহু সে কথাটাই আজ ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বললেন মেসি। তিনি বলেন, ‘সমর্থকদের বলছি, কাতারে যা বলেছিলাম, সেটাই আবার বলছি। এটা উপভোগ করুন। এই দল কখনও আপনাদের হতাশ করবে না।’
এই বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি। মেসি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপটা একদম পাগলাটে গেছে। আরেকটা বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠাটা অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।’
ম্যাচের আবেগও ছিল তুঙ্গে। এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ইতিহাসটা কম নয়। এই ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টারে হারিয়ে পরে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তার আগে ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ছিল সর্বনিম্ন বিন্দুতে, সে জয় তাই ম্যারাডোনার দলের কাছে জয়ের চেয়েও বেশি কিছু ছিল।
এরপর ১৯৯৮ সালে বেকহ্যামের লাল কার্ড, ২০০২ সালে সেই বেকহ্যামের পেনাল্টিতে হার… কিংবা সবকিছুর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তনিও রাত্তিনের ইতিহাস বদলে দেওয়া সেই বহিষ্কারাদেশ… সব মিলিয়ে এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আর দশটা ম্যাচের মতো মোটেও নয় আর্জেন্টিনার কাছে।
সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও জয় পেল আর্জেন্টিনা, চলে গেল ফাইনালে। যার জোড়া গোলই আবার এসেছে মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে। এই জয় তাই অন্য রকম আবেগে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন মেসি।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ হলেও, জাতীয় সংগীত শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই আমরা বিশেষ কিছু অনুভব করেছি। এটা শুধু আরেকটা জয় ছিল না। আর্জেন্টিনার মানুষ এই জয়টা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি চেয়েছিল।’
এক নজরে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষ তারকারা:
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট
আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল
জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৫ গোল, ২ অ্যাসিস্ট
মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন): ৫ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
এই সাতজনের মধ্যে হালান্ড ছাড়া বাকি ছয়জনের সামনে আরও একটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। রোববারের ফাইনালে শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।


