https://asia24.tv


ছবি: -প্রতিনিধি
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মীদের আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে জানাতে হবে। এছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
জানা যায়, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় অনেক সরকারি কর্মচারী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। এর ফলে তাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বলেন, ডিসি সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব সিদ্ধান্তের অগ্রগতি নিয়মিত পাঠানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির সময়ে রেশন সুবিধা সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে। তবে সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২তম গ্রেডের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, অডিটর, জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর এবং ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী, পিয়ন, মালী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা ভোগ করছেন। উদাহরণ হিসেবে পুলিশ বাহিনীর চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন হিসেবে সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি বরাদ্দ রয়েছে।


