https://asia24.tv


ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
ঐতিহ্য ও অর্জনের বিচারে দুই দলের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপরীতে মরক্কোর সেরা সাফল্য সেমিফাইনালে ওঠা, যা তারা অর্জন করেছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। সেবার সেমিফাইনালে মরক্কোকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল ফরাসিরা। তবে গত চার বছরে মরক্কো নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে সেই ব্যবধান অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স, আর মরক্কো অবস্থান করছে সপ্তম স্থানে। আফ্রিকান ফুটবলের নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে মরক্কো। চলতি বছর আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ের পর বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে দলটি। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করে শুরু করার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে তারা। এরপর নকআউট পর্বে নেদারল্যান্ডস ও কানাডাকে বিদায় জানিয়ে জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
অন্যদিকে ফ্রান্সও রয়েছে দুর্দান্ত ফর্মে। টানা সাতটি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন। এমবাপ্পে ইতোমধ্যে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে অন্যতম দাবিদার। দেম্বেলে করেছেন দলের একমাত্র হ্যাটট্রিক, আর পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে ওলিসে গড়ে তুলেছেন একাধিক গোলের সুযোগ।
রক্ষণভাগে উইলিয়াম সালিবার প্রত্যাবর্তনে ফ্রান্স আরও শক্তিশালী হয়েছে। বেঞ্চেও রয়েছে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ফুটবলার। তবে চোটের কারণে মধ্যমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অরেলিয়েন চুয়ামেনির খেলা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
মরক্কোর শক্তিও কম নয়। কোচ মোহাম্মদ উয়াহবির অধীনে দলটি দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলছে। মধ্যমাঠে আজ্জেদিন উনাহি ও আক্রমণে ব্রাহিম দিয়াজ প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন। গোলপোস্টে আস্থার প্রতীক ইয়াসিন বনুও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তবে চোটের কারণে এই বিশ্বকাপে তিন গোল করা ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি ম্যাচটি খেলতে পারবেন না।
ম্যাচের আগে মরক্কো কোচ উয়াহবি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমরা এখন আর কোনো চমক নই। নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছি, আর সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় গর্ব।’
পরিসংখ্যানও দুই দলের সামনে নতুন ইতিহাসের হাতছানি দিচ্ছে। ফ্রান্স জয় পেলে টানা তিনটি বিশ্বকাপে অন্তত সেমিফাইনালে ওঠা তৃতীয় দল হবে। অন্যদিকে মরক্কো জিতলে টানা দুই বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা সপ্তম দল হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাবে।
ফ্রান্স ও মরক্কোর এই লড়াই শুধু ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, ইতিহাসেরও এক প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ সময় মরক্কো ছিল ফরাসি উপনিবেশ। বর্তমানে ফ্রান্সে সাত লাখেরও বেশি মরোক্কান বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ফলে বোস্টনের এই ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ইতিহাস ও আবেগও বিশেষ মাত্রা যোগ করবে।


